, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ সিলেটের জৈন্তাপুরে বালুচাপায় যুবকের মৃত্যু সিলেটে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃদ্ধার মৃত্যু সৈয়দুর রহমানের কৃষি প্রকল্প পরিদর্শনে দক্ষিণ সুরমার ইউএনও আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইরান ইরানের মিসাইল হামলায় দুবাইয়ে বড়লেখার প্রবাসী সালেহ মিয়া নিহত যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় হামলা চালাল ইরান দক্ষ জনশক্তি গড়তে বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের বিকল্প নেই : সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটের বালাগঞ্জে নৃশংস হামলা: ছাত্রদল কর্মী শাহ ইসমাইলকে কুপিয়ে হত্যা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলো ইরান

জোটসঙ্গীদের চাপ ও হুমকিতে সিলেট বিভাগে বিপাকে জামায়াত

  • জুনেদ আহমদ
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭৭ পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর বৃহত্তম জোটে অন্তর্ভুক্ত জামায়াতে ইসলামি সিলেট বিভাগে আসন সমঝোতা নিয়ে চরম চাপ ও অস্বস্তির মুখে পড়েছে। জোটসঙ্গীদের আচরণ, অভ্যন্তরীণ অনভিজ্ঞতা এবং কৌশলগত ভুলের কারণে জামায়াতের সম্ভাবনাময় বেশ কয়েকটি আসন হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের কনজারভেটিভ রাজনীতি থেকে বের হয়ে প্রথমবারের মতো বহুমাত্রিক ও ইনক্লুসিভ জোট রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে জামায়াত। সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দাড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে জনমত গড়ে উঠলেও জোটের ভেতরের দ্বন্দ্ব সেই সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

চরমোনাই পীরের সরে যাওয়া ও জোটে ফাটল

গত এক সপ্তাহ আগে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন একটি অংশ জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে সংকটের সূচনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, আদর্শিক বা রাজনৈতিক কোনো কারণ ছাড়াই লোভ, পারস্পরিক বিরোধ ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে তারা জোট ত্যাগ করেন।

এরপর গত কয়েক দিনে খেলাফত মজলিসের দুই গ্রুপ সিলেট ও সুনামগঞ্জের একাধিক আসন নিয়ে চাপ সৃষ্টি করে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, ১৯ তারিখ রাতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক সিলেট-৩ ও সুনামগঞ্জ-৩ আসন দাবি করে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বকে চাপ দেন। দাবি পূরণ না হলে জোট ছাড়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

সিলেট-৩ ও সুনামগঞ্জ-৩ আসন নিয়ে বিতর্ক

সূত্র জানায়, সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু ও খেলাফত মজলিসের নেতাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং অন্যান্য রাজনৈতিক পক্ষের কৌশলগত তৎপরতায় আসনটি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সুনামগঞ্জ-৩ আসনেও।

রাজনৈতিক মহলের দাবি, এসব ঘটনায় একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা এবং বড় একটি রাজনৈতিক দলের স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে যার ফলে জামায়াতের জোটগত অবস্থান দুর্বল হয়েছে।

কানাইঘাট, ছাতক ও হবিগঞ্জে চাপ

খেলাফত মজলিসের আরেক গ্রুপের মহাসচিব ড. কাদের কানাইঘাট, মৌলভীবাজার সদর, সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারা) এবং হবিগঞ্জের একাধিক আসনের জন্য বায়না ধরেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের মতে, এসব আসনে খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হলেও জোটের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসন আদায় করা হয়েছে, যা জামায়াতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

তৃণমূলে ক্ষোভ, সমর্থকদের প্রশ্ন

জামায়াতের তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এক সমর্থক বলেন, এতদিন দাড়িপাল্লায় ভোট চাইলাম। এখন হঠাৎ অন্য প্রতীকে ভোট চাইতে গেলে মানুষের কাছে কী জবাব দেব?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সময়মতো আসন সমঝোতা না করাই জামায়াতের বড় কৌশলগত ভুল ছিল। শুধুমাত্র জোটের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গিয়ে দলটিকে একাধিক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, যা ভবিষ্যতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইসলামি জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

বিশ্লেষক ও কলামিস্ট এনামুল হক মনে করেন, এই আত্মঘাতী রাজনীতির ফলেই ইসলামি রাজনৈতিক জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এর সুযোগে আবারও আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এবারের নির্বাচন শেষে “ইসলামি রাজনৈতিক জোটের কবর রচিত হতে পারে” এবং ‘মোল্লারা কখনও এক হবে না’ এই প্রবাদই সত্য প্রমাণিত হতে পারে।

সিলেটে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ

জোটসঙ্গীদের চাপ ও হুমকিতে সিলেট বিভাগে বিপাকে জামায়াত

প্রকাশের সময় : ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর বৃহত্তম জোটে অন্তর্ভুক্ত জামায়াতে ইসলামি সিলেট বিভাগে আসন সমঝোতা নিয়ে চরম চাপ ও অস্বস্তির মুখে পড়েছে। জোটসঙ্গীদের আচরণ, অভ্যন্তরীণ অনভিজ্ঞতা এবং কৌশলগত ভুলের কারণে জামায়াতের সম্ভাবনাময় বেশ কয়েকটি আসন হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের কনজারভেটিভ রাজনীতি থেকে বের হয়ে প্রথমবারের মতো বহুমাত্রিক ও ইনক্লুসিভ জোট রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে জামায়াত। সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দাড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে জনমত গড়ে উঠলেও জোটের ভেতরের দ্বন্দ্ব সেই সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

চরমোনাই পীরের সরে যাওয়া ও জোটে ফাটল

গত এক সপ্তাহ আগে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন একটি অংশ জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে সংকটের সূচনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, আদর্শিক বা রাজনৈতিক কোনো কারণ ছাড়াই লোভ, পারস্পরিক বিরোধ ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে তারা জোট ত্যাগ করেন।

এরপর গত কয়েক দিনে খেলাফত মজলিসের দুই গ্রুপ সিলেট ও সুনামগঞ্জের একাধিক আসন নিয়ে চাপ সৃষ্টি করে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, ১৯ তারিখ রাতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক সিলেট-৩ ও সুনামগঞ্জ-৩ আসন দাবি করে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বকে চাপ দেন। দাবি পূরণ না হলে জোট ছাড়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

সিলেট-৩ ও সুনামগঞ্জ-৩ আসন নিয়ে বিতর্ক

সূত্র জানায়, সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু ও খেলাফত মজলিসের নেতাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং অন্যান্য রাজনৈতিক পক্ষের কৌশলগত তৎপরতায় আসনটি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সুনামগঞ্জ-৩ আসনেও।

রাজনৈতিক মহলের দাবি, এসব ঘটনায় একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা এবং বড় একটি রাজনৈতিক দলের স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে যার ফলে জামায়াতের জোটগত অবস্থান দুর্বল হয়েছে।

কানাইঘাট, ছাতক ও হবিগঞ্জে চাপ

খেলাফত মজলিসের আরেক গ্রুপের মহাসচিব ড. কাদের কানাইঘাট, মৌলভীবাজার সদর, সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারা) এবং হবিগঞ্জের একাধিক আসনের জন্য বায়না ধরেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের মতে, এসব আসনে খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হলেও জোটের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসন আদায় করা হয়েছে, যা জামায়াতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

তৃণমূলে ক্ষোভ, সমর্থকদের প্রশ্ন

জামায়াতের তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এক সমর্থক বলেন, এতদিন দাড়িপাল্লায় ভোট চাইলাম। এখন হঠাৎ অন্য প্রতীকে ভোট চাইতে গেলে মানুষের কাছে কী জবাব দেব?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সময়মতো আসন সমঝোতা না করাই জামায়াতের বড় কৌশলগত ভুল ছিল। শুধুমাত্র জোটের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গিয়ে দলটিকে একাধিক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, যা ভবিষ্যতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইসলামি জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

বিশ্লেষক ও কলামিস্ট এনামুল হক মনে করেন, এই আত্মঘাতী রাজনীতির ফলেই ইসলামি রাজনৈতিক জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এর সুযোগে আবারও আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এবারের নির্বাচন শেষে “ইসলামি রাজনৈতিক জোটের কবর রচিত হতে পারে” এবং ‘মোল্লারা কখনও এক হবে না’ এই প্রবাদই সত্য প্রমাণিত হতে পারে।