, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ সিলেটের জৈন্তাপুরে বালুচাপায় যুবকের মৃত্যু সিলেটে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃদ্ধার মৃত্যু সৈয়দুর রহমানের কৃষি প্রকল্প পরিদর্শনে দক্ষিণ সুরমার ইউএনও আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইরান ইরানের মিসাইল হামলায় দুবাইয়ে বড়লেখার প্রবাসী সালেহ মিয়া নিহত যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় হামলা চালাল ইরান দক্ষ জনশক্তি গড়তে বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের বিকল্প নেই : সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটের বালাগঞ্জে নৃশংস হামলা: ছাত্রদল কর্মী শাহ ইসমাইলকে কুপিয়ে হত্যা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলো ইরান
জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা

সিলেট-৩ আসনে জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী রেখে জোটের অচেনা প্রার্থী

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা,ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগন্জ) আসনে নির্বাচনী সমীকরণ নাটকীয় মোড় নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী এলাকায় শক্ত অবস্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামীর হেভিওয়েট প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদকে বাদ দিয়ে ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী করা হয়েছে খেলাফত মজলিসের মুছলেহ উদ্দিন রাজুকে।

যাকে স্থানীয় ভোটার ও সাধারণ মানুষ ‘অচেনা’ হিসেবেই দেখছেন। এই সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর থেকেই জোটের নেতাকর্মী এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নির্বাচনী এলাকায় দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ মাওলানা লোকমান আহমদ দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও
স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে গণসংযোগ চালিয়ে আসছিলেন। সাধারণ ভোটারদের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা থাকায় তাকে ঘিরেই জয়ের স্বপ্ন দেখছিলেন সমর্থকরা।

অন্যদিকে, জোটের শরিক দল খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুছলেহ উদ্দিন রাজু সাধারণ মানুষের কাছে তার দল ও মার্কাসহ একেবারেই অপরিচিত। রাজনৈতিক মাঠে হঠাৎ করে রিকশা মার্কার এই প্রার্থীর আবির্ভাবে স্থানীয় ভোটাররা যেমন অবাক হয়েছেন, তেমনি প্রকাশ করেছেন চরম অসন্তোষ।

সমর্থকদের মতে, মাঠের জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব না দিয়ে ওপর মহল থেকে চাপিয়ে দেওয়া এই সিদ্ধান্ত আসনটি প্রতিপক্ষকে ছেড়ে দেওয়ার নামান্তর। সাধারণ ভোটাররা বলছেন,মুছলেহ উদ্দিন রাজুকে আগে কখনো এলাকায় দেখা যায়নি এবং তার কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক তৎপরতাও ছিল না।তিনি কেবল একটি মাদ্রাসার প্রধান।

তাছাড়া তারা দাড়িপাল্লার বিপরীতে রাজুর মার্কাকেও চেনেন না বলে অভিযোগ করছেন।। এমন পরিস্থিতিতে পরিচিত ও জনসম্পৃক্ত নেতা লোকমান আহমদকে সরিয়ে দেওয়ায় ভোটের মাঠে জোট বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সিলেট-৩ আসনে এই মনোনয়ন নাটকীয়তায় এখন সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ ভোটবিমুখ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, হেভিওয়েট প্রার্থী লোকমান আহমদকে বাদ দিয়ে জোট যে ভুল করেছে, তার মাশুল হয়তো নির্বাচনের দিন দিতে হতে পারে।

এলাকার মোড়ে মোড়ে এখন একটাই আলোচনা- পরিচিত প্রার্থীকে রেখে কেন এই ‘অচেনা’ মুখে বাজি ধরল জোট। উল্লেখ্য, সিলেট- ৩ আসনে বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করবেন মোহাম্মদ আব্দুল মালিক।

দক্ষিণ সুরমার তেতলী ইউনিয়নের পুরান তেতলী সেন্টার কমিটির সেক্রেটারি হুরমত আলী
বলেন, আমরা সেই শুরু থেকে কাজ করে আসছি লোকমান ভাইয়ের জন্য। লোকমান ভাই এখানের স্থায়ী বাসিন্দা, তিনি দক্ষিণ সুরমার মাটি ও মানুষের নেতা।

সিলেট-৩ আসনের মানুষ তাকে ছাড়া এখানে কাউকে চায় না। ১১ দলীয় জোট এমন নতুন একজনকে দিয়েছে, যার মার্কা ও নাম পর্যন্ত মানুষ জানে না। আমরা খুবই মর্মাহত ও আশাহত। এভাবে বিএনপিকে আসন ছেড়ে দেয়া উচিত হয়নি।

লালাবাজার ইউনিয়নের ভোটার গোলাম কিবরিয়া
বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে আমাদের ইউনিয়নের প্রায় ভোটারই দাড়িপাল্লায় ভোট দিতে অপেক্ষা ছিলেন।

কিন্তু ১১ দলীয় জোটের হেভিওয়েট প্রার্থী লোকমান আহমদকে না দিয়ে নতুন আরেকজনকে মনোনয়ন দিয়ে এ আসন বিএনপির কাছে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

মানুষ ব্যক্তির চেয়ে এখানে মার্কা চিনে। যখন মানুষ শুনেছে দাড়িপাল্লার লোকমান আহমদ নেই, তখনই আলোচনা শুরু হয়। মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলাবলি করছে, যেখানে দাড়িপাল্লা নেই, সেখানে ভোট সেন্টারে গিয়েই বা কি করবো।”

 

এ বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আমীর সাব্বির আহমদ বলেন, “আমাদের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদ ভাই মানুষের কাছে যেভাবে পৌছেছেন, মানুষ অপেক্ষমাণ দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে। এখন লোকমান ভাই না থাকলে সাধারণ মানুষ মনে কষ্ট পাবে, যা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে।

জোট যাকে মনোনয়ন দিক না কেন, আমরা তার হয়েই কাজ করবো কিন্তু আমরা বছর ধরে কাজ করে দাঁড়িপাল্লার জন্য যে ঢেউ তুলেছিলাম, তা এই অল্প সময়ে নতুন মুখ জোটের প্রার্থী মুছলেহ উদ্দিন রাজুর জন্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌছে আবার নতুনভাবে কাজ করে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেয়াটা কষ্টসাধ্য হবে এমনকি চ্যালেঞ্জিংও হবে। সেটাও নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আমরা বুঝতে পারছি। মানুষ দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ার জন্য দীর্ঘ দেড় যুগ অপেক্ষা করছে।

আমরা সেভাবেই কাজ করে মাঠ তৈরি করেছি, মাঠ তৈরি করেছি। তবে এখানে আমাদের প্রার্থীকে না দিয়ে নতুন প্রার্থী যাকে দেয়া হয়েছে, সেটা জোটেরই সিদ্ধান্ত।

সিলেটে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ

জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা

সিলেট-৩ আসনে জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী রেখে জোটের অচেনা প্রার্থী

প্রকাশের সময় : ১২:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা,ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগন্জ) আসনে নির্বাচনী সমীকরণ নাটকীয় মোড় নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী এলাকায় শক্ত অবস্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামীর হেভিওয়েট প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদকে বাদ দিয়ে ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী করা হয়েছে খেলাফত মজলিসের মুছলেহ উদ্দিন রাজুকে।

যাকে স্থানীয় ভোটার ও সাধারণ মানুষ ‘অচেনা’ হিসেবেই দেখছেন। এই সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর থেকেই জোটের নেতাকর্মী এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নির্বাচনী এলাকায় দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ মাওলানা লোকমান আহমদ দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও
স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে গণসংযোগ চালিয়ে আসছিলেন। সাধারণ ভোটারদের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা থাকায় তাকে ঘিরেই জয়ের স্বপ্ন দেখছিলেন সমর্থকরা।

অন্যদিকে, জোটের শরিক দল খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুছলেহ উদ্দিন রাজু সাধারণ মানুষের কাছে তার দল ও মার্কাসহ একেবারেই অপরিচিত। রাজনৈতিক মাঠে হঠাৎ করে রিকশা মার্কার এই প্রার্থীর আবির্ভাবে স্থানীয় ভোটাররা যেমন অবাক হয়েছেন, তেমনি প্রকাশ করেছেন চরম অসন্তোষ।

সমর্থকদের মতে, মাঠের জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব না দিয়ে ওপর মহল থেকে চাপিয়ে দেওয়া এই সিদ্ধান্ত আসনটি প্রতিপক্ষকে ছেড়ে দেওয়ার নামান্তর। সাধারণ ভোটাররা বলছেন,মুছলেহ উদ্দিন রাজুকে আগে কখনো এলাকায় দেখা যায়নি এবং তার কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক তৎপরতাও ছিল না।তিনি কেবল একটি মাদ্রাসার প্রধান।

তাছাড়া তারা দাড়িপাল্লার বিপরীতে রাজুর মার্কাকেও চেনেন না বলে অভিযোগ করছেন।। এমন পরিস্থিতিতে পরিচিত ও জনসম্পৃক্ত নেতা লোকমান আহমদকে সরিয়ে দেওয়ায় ভোটের মাঠে জোট বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সিলেট-৩ আসনে এই মনোনয়ন নাটকীয়তায় এখন সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ ভোটবিমুখ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, হেভিওয়েট প্রার্থী লোকমান আহমদকে বাদ দিয়ে জোট যে ভুল করেছে, তার মাশুল হয়তো নির্বাচনের দিন দিতে হতে পারে।

এলাকার মোড়ে মোড়ে এখন একটাই আলোচনা- পরিচিত প্রার্থীকে রেখে কেন এই ‘অচেনা’ মুখে বাজি ধরল জোট। উল্লেখ্য, সিলেট- ৩ আসনে বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করবেন মোহাম্মদ আব্দুল মালিক।

দক্ষিণ সুরমার তেতলী ইউনিয়নের পুরান তেতলী সেন্টার কমিটির সেক্রেটারি হুরমত আলী
বলেন, আমরা সেই শুরু থেকে কাজ করে আসছি লোকমান ভাইয়ের জন্য। লোকমান ভাই এখানের স্থায়ী বাসিন্দা, তিনি দক্ষিণ সুরমার মাটি ও মানুষের নেতা।

সিলেট-৩ আসনের মানুষ তাকে ছাড়া এখানে কাউকে চায় না। ১১ দলীয় জোট এমন নতুন একজনকে দিয়েছে, যার মার্কা ও নাম পর্যন্ত মানুষ জানে না। আমরা খুবই মর্মাহত ও আশাহত। এভাবে বিএনপিকে আসন ছেড়ে দেয়া উচিত হয়নি।

লালাবাজার ইউনিয়নের ভোটার গোলাম কিবরিয়া
বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে আমাদের ইউনিয়নের প্রায় ভোটারই দাড়িপাল্লায় ভোট দিতে অপেক্ষা ছিলেন।

কিন্তু ১১ দলীয় জোটের হেভিওয়েট প্রার্থী লোকমান আহমদকে না দিয়ে নতুন আরেকজনকে মনোনয়ন দিয়ে এ আসন বিএনপির কাছে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

মানুষ ব্যক্তির চেয়ে এখানে মার্কা চিনে। যখন মানুষ শুনেছে দাড়িপাল্লার লোকমান আহমদ নেই, তখনই আলোচনা শুরু হয়। মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলাবলি করছে, যেখানে দাড়িপাল্লা নেই, সেখানে ভোট সেন্টারে গিয়েই বা কি করবো।”

 

এ বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আমীর সাব্বির আহমদ বলেন, “আমাদের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদ ভাই মানুষের কাছে যেভাবে পৌছেছেন, মানুষ অপেক্ষমাণ দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে। এখন লোকমান ভাই না থাকলে সাধারণ মানুষ মনে কষ্ট পাবে, যা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে।

জোট যাকে মনোনয়ন দিক না কেন, আমরা তার হয়েই কাজ করবো কিন্তু আমরা বছর ধরে কাজ করে দাঁড়িপাল্লার জন্য যে ঢেউ তুলেছিলাম, তা এই অল্প সময়ে নতুন মুখ জোটের প্রার্থী মুছলেহ উদ্দিন রাজুর জন্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌছে আবার নতুনভাবে কাজ করে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেয়াটা কষ্টসাধ্য হবে এমনকি চ্যালেঞ্জিংও হবে। সেটাও নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আমরা বুঝতে পারছি। মানুষ দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ার জন্য দীর্ঘ দেড় যুগ অপেক্ষা করছে।

আমরা সেভাবেই কাজ করে মাঠ তৈরি করেছি, মাঠ তৈরি করেছি। তবে এখানে আমাদের প্রার্থীকে না দিয়ে নতুন প্রার্থী যাকে দেয়া হয়েছে, সেটা জোটেরই সিদ্ধান্ত।