সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হাতিটিকে চিকিৎসা দিয়েও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে হাতিটি মারা যায়।
হাতিটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান। তিনি জানান, ট্রেনের আঘাতে হাতিটি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় চিকিৎসা দেওয়ার পর কিছুটা স্থিতিশীল মনে হলেও সার্বিক অবস্থার কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। শেষ পর্যন্ত হাতিটি মারা যায়।
প্রাণীটির চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের অধ্যাপক সুলতান আহমদ বলেন, ট্রেনের ধাক্কায় হাতিটির মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে। এতে পেছনের দুই পা ও শরীরের পেছনের অংশ সম্পূর্ণভাবে অসাড় হয়ে যায়। শরীরের একাধিক স্থানে গুরুতর জখম ছিল। সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও হাতিটিকে বাঁচানো যায়নি।
এর আগে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় রেললাইন পার হতে গিয়ে হাতিটি ট্রেনের ধাক্কায় আহত হয়। ধাক্কায় হাতিটি রেললাইনের পাশের একটি ডোবায় পড়ে যায়। এ ঘটনায় হাতিটির মাহুতও আহত হন।
পরে স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক দলের যৌথ প্রচেষ্টায় হাতিটিকে উদ্ধার করে ডাঙায় তোলা হয় এবং চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়।
বন বিভাগ জানায়, হাতিটির মালিক মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম। কয়েক দিন আগে একটি অনুষ্ঠানের জন্য হাতিটিকে সিলেটে আনা হয়েছিল। শনিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে মাহুত হাতিটিকে নিয়ে রেললাইন পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বন্যপ্রাণী পরিবহন ও রেললাইন পারাপার বিষয়ে আরও সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক 









