, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ সিলেটের জৈন্তাপুরে বালুচাপায় যুবকের মৃত্যু সিলেটে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃদ্ধার মৃত্যু সৈয়দুর রহমানের কৃষি প্রকল্প পরিদর্শনে দক্ষিণ সুরমার ইউএনও আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইরান ইরানের মিসাইল হামলায় দুবাইয়ে বড়লেখার প্রবাসী সালেহ মিয়া নিহত যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় হামলা চালাল ইরান দক্ষ জনশক্তি গড়তে বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের বিকল্প নেই : সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটের বালাগঞ্জে নৃশংস হামলা: ছাত্রদল কর্মী শাহ ইসমাইলকে কুপিয়ে হত্যা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলো ইরান
বিচার না পেয়ে ভুক্তভোগীর মৃত্যু

সুনামগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বসত ভিটা দখলের অভিযোগ

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের এরালিয়া গ্রামে হতদরিদ্র পরিবারকে ঋণের টাকা দেয়ার নামে প্রতারণা করে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ঋণগ্রহিতার বসত ভিটা রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতা ও তার ব্যবসায়িক অংশীদারের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোশাহিদ আলী এরালিয়া গ্রামের মৃত. ফজর আলীর পুত্র। তিনি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। অপর অভিযুক্ত ব্যক্তি মোস্তাকিন মিয়া একই ইউনিয়নের চুয়াপুর গ্রামের মৃত. শের মামদের পুত্র।

ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার এরালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম একজন হতদরিদ্র লোক এবং হাঁসের খামারের মাধ্যমে হাঁস লালন পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। হতদরিদ্র সিরাজুল ইসলামের পরিবারে ৬ কন্যা, ২ পুত্র ও বৃদ্ধা মা আছেন। ২০১৩ সালে হাঁসের খামারে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মো. সিরাজুল ইসলাম স্থানীয় এনজিও’র মাধ্যমে ঋণ গ্রহণের চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলামের অসহায়ত্বের সুযোগে একই গ্রামের বিএনপি নেতা মোশাহিদ মিয়া তাকে ঋণ দেবেন বলে আশ্বস্ত করেন। পরে মোশাহিদ মিয়া ও তার ব্যবসায়ীক অংশিদার মোস্তাকিন মিয়া সুনামগঞ্জ শহরে ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলাম ও তার মা মোছা. আয়শা বেগমকে বাৎসরিক শতকরা ১৩ পার্সেন্ট হারে দুই বৎসর মেয়াদী দুই লক্ষ টাকা ঋণ দেয় এবং ঋণ দেয়ার সময় একাধিক নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলাম ও তার মা মোছা. আয়শা বেগমের স্বাক্ষর নেয়। পরবর্তীতে দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পর ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলাম তাঁর ঋণের দুই লক্ষ টাকা লাভ সহ মোশাহিদ মিয়ার কাছে ফিরত দিতে গেলে মোশাহিদ মিয়া ও তার ব্যবসায়ীক অংশীদার মোস্তাকিন মিয়া সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলাম তার বসত ভিটায় থাকা বাঁশ ঝাড় কাটতে গেলে মোশাহিদ মিয়া এতে বাধা দেয় এবং তার জায়গা ও বসত বাড়ির মালিকানা দাবি করে। পরে ভুক্তভোগী পরিবার জানতে পারেন, ঋণ দেয়ার কথা বলে মো. সিরাজুল ইসলাম ও তার মা মোছা. আয়শা বেগমের সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে মোশাহিদ মিয়া নিজের নামে কোন কিছু না করে তার শ্যালক শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাক ইউনিয়নের আমড়িয়া গ্রামের কালন মিয়ার ছেলে হোসাইন আহমদ ও মোশাহিদ মিয়ার ব্যবসায়ীক অংশীদার মোস্তাকিন মিয়া তার নামে কোন কিছু না করে তাঁর শ্যালক দিরাই থানাধীন সাদিপুর গ্রামের আলতাব মিয়ার ছেলে মো. জায়ফর মিয়ার নামে ভুক্তভোগী পরিবারের ২২ শতাংশ বসত ভিটা ও ভূমি তাদের অগোচরে রেজিস্ট্রি করে নিয়ে গেছে। বসত ভিটা ও সম্পদ হারানোর শোকে গত ৪ বছর পূর্বে ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলামের মা মোছা. আয়শা বেগম মারা যান। ফ্যামিলি গেম

ঋণের কথা বলে বসত ভিটা রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় াবে ইউপি চেয়ারম্যান সহ একাধিকবার গ্রাম্যভাবে আপোষ মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও মোশাহিদ মিয়া, তার ব্যবসায়ীক অংশিদার মোস্তাকিন মিয়া সহ তাহাদের শ্যালক দলিল গ্রহিতা হোসাইন আহমদ ও মো. জায়ফর মিয়া শালিস বৈঠকে না এসে এড়িয়ে যেতে থাকে।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম নিজ বসত ভিটা হারনোর শোকে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন এবং গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন। এমন প্রতারণার মাধ্যমে সম্পদ আত্মসাৎ করায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্ত কাঠইর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোশাহিদ মিয়া বলেন, দলিল যার, জায়গা তার। প্রতারণার কোন প্রশ্নই আসে না। আমি দলিলে কোন সাক্ষীও না। আমার কোন স্বাক্ষরও নাই। প্রতারণা করে থাকলে সাব রেজিস্ট্রার বুঝবে, আমি কিছু জানি না।

ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী মোসাদ্দিকা বলেন, আমার ৬ মেয়ে ও ২ ছেলে। আমার স্বামী সিরাজুল ইসলাম আমাদের পারিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। আমার স্বামী ও শাশুড়িকে ঋণ দেয়ার কথা বলে আমাদের গ্রামের মোশাহিদ স্ট্যাম্পে দস্তখত নিয়ে দলিল করে নিয়েছে। আমার স্বামী বিচার না পেয়ে ষ্ট্রোক করে মারা গেছেন। আমি এখন কার কাছে যাবো। আমি আমার সন্তানকে কিভাবে লালন পালন করবো, আমি এর বিচার চাই।

এরালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইছাক আলী, রইছ মিয়া, জামলাবাজ গ্রামের আফতাবুজ্জামান জানান, মোশাহিদ মিয়া একজন খারাপ প্রকৃতির লোক। সে সিরাজুল ইসলাম ও তার মা মোছা. আয়শা বেগম কোন লেখা পড়া জানেন না। সেই সুযোগে দুই লক্ষ টাকা ঋণ দেয়ার কথা বলে ষ্ট্যাম্প করে তাহাদের সম্পত্তি হাতিয়েছে। এটা খুবই নিন্দনীয় কাজ। সঠিক সময়ে সঠিক বিচার না পাওয়ায় আজ সিরাজুল ইসলামকেও মরতে হলো।

কাঠইর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মকতছির আলী বলেন, ঋণ দেয়ার নামে প্রতারণা করে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার বিষয়টি বিচার শালিসে প্রমাণিত হয়েছে। অভিযুক্ত মোশাহিদ ও তার লোকজনকে বিচার শালিসে একাধিবার উপস্থিত থাকার চেষ্টা করা হলেও তারা আসে নি। বার বার বিচার চাইতে গিয়ে কোন বিচার না পেয়ে সিরাজুল ইসলাম ও তার মা অকালে মারা গেছেন, এটা খুবই দুঃখজনক।

কাঠরই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুফতি মাওলানা শামছুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছে। বিগত ৪/৫ বছর ধরে আমি সামাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু অভিযুক্তদের বার বার বিচার শালিসে আমন্ত্রন করা হলে, তারা আসে নি। তবে মোশাহিদ মিয়া ও তার লোকজন ভুক্তভোগী পরিবারে জমি প্রতারণা করে দলিল বানিয়েছে, সেটা প্রমাণিত। ভুক্তভোগী পরিবার তাদের জমি কারও কাছে বিক্রি করে নি।

সিলেটে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ

বিচার না পেয়ে ভুক্তভোগীর মৃত্যু

সুনামগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বসত ভিটা দখলের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের এরালিয়া গ্রামে হতদরিদ্র পরিবারকে ঋণের টাকা দেয়ার নামে প্রতারণা করে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ঋণগ্রহিতার বসত ভিটা রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতা ও তার ব্যবসায়িক অংশীদারের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোশাহিদ আলী এরালিয়া গ্রামের মৃত. ফজর আলীর পুত্র। তিনি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। অপর অভিযুক্ত ব্যক্তি মোস্তাকিন মিয়া একই ইউনিয়নের চুয়াপুর গ্রামের মৃত. শের মামদের পুত্র।

ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার এরালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম একজন হতদরিদ্র লোক এবং হাঁসের খামারের মাধ্যমে হাঁস লালন পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। হতদরিদ্র সিরাজুল ইসলামের পরিবারে ৬ কন্যা, ২ পুত্র ও বৃদ্ধা মা আছেন। ২০১৩ সালে হাঁসের খামারে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মো. সিরাজুল ইসলাম স্থানীয় এনজিও’র মাধ্যমে ঋণ গ্রহণের চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলামের অসহায়ত্বের সুযোগে একই গ্রামের বিএনপি নেতা মোশাহিদ মিয়া তাকে ঋণ দেবেন বলে আশ্বস্ত করেন। পরে মোশাহিদ মিয়া ও তার ব্যবসায়ীক অংশিদার মোস্তাকিন মিয়া সুনামগঞ্জ শহরে ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলাম ও তার মা মোছা. আয়শা বেগমকে বাৎসরিক শতকরা ১৩ পার্সেন্ট হারে দুই বৎসর মেয়াদী দুই লক্ষ টাকা ঋণ দেয় এবং ঋণ দেয়ার সময় একাধিক নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলাম ও তার মা মোছা. আয়শা বেগমের স্বাক্ষর নেয়। পরবর্তীতে দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পর ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলাম তাঁর ঋণের দুই লক্ষ টাকা লাভ সহ মোশাহিদ মিয়ার কাছে ফিরত দিতে গেলে মোশাহিদ মিয়া ও তার ব্যবসায়ীক অংশীদার মোস্তাকিন মিয়া সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলাম তার বসত ভিটায় থাকা বাঁশ ঝাড় কাটতে গেলে মোশাহিদ মিয়া এতে বাধা দেয় এবং তার জায়গা ও বসত বাড়ির মালিকানা দাবি করে। পরে ভুক্তভোগী পরিবার জানতে পারেন, ঋণ দেয়ার কথা বলে মো. সিরাজুল ইসলাম ও তার মা মোছা. আয়শা বেগমের সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে মোশাহিদ মিয়া নিজের নামে কোন কিছু না করে তার শ্যালক শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাক ইউনিয়নের আমড়িয়া গ্রামের কালন মিয়ার ছেলে হোসাইন আহমদ ও মোশাহিদ মিয়ার ব্যবসায়ীক অংশীদার মোস্তাকিন মিয়া তার নামে কোন কিছু না করে তাঁর শ্যালক দিরাই থানাধীন সাদিপুর গ্রামের আলতাব মিয়ার ছেলে মো. জায়ফর মিয়ার নামে ভুক্তভোগী পরিবারের ২২ শতাংশ বসত ভিটা ও ভূমি তাদের অগোচরে রেজিস্ট্রি করে নিয়ে গেছে। বসত ভিটা ও সম্পদ হারানোর শোকে গত ৪ বছর পূর্বে ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলামের মা মোছা. আয়শা বেগম মারা যান। ফ্যামিলি গেম

ঋণের কথা বলে বসত ভিটা রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় াবে ইউপি চেয়ারম্যান সহ একাধিকবার গ্রাম্যভাবে আপোষ মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও মোশাহিদ মিয়া, তার ব্যবসায়ীক অংশিদার মোস্তাকিন মিয়া সহ তাহাদের শ্যালক দলিল গ্রহিতা হোসাইন আহমদ ও মো. জায়ফর মিয়া শালিস বৈঠকে না এসে এড়িয়ে যেতে থাকে।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম নিজ বসত ভিটা হারনোর শোকে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন এবং গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন। এমন প্রতারণার মাধ্যমে সম্পদ আত্মসাৎ করায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্ত কাঠইর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোশাহিদ মিয়া বলেন, দলিল যার, জায়গা তার। প্রতারণার কোন প্রশ্নই আসে না। আমি দলিলে কোন সাক্ষীও না। আমার কোন স্বাক্ষরও নাই। প্রতারণা করে থাকলে সাব রেজিস্ট্রার বুঝবে, আমি কিছু জানি না।

ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী মোসাদ্দিকা বলেন, আমার ৬ মেয়ে ও ২ ছেলে। আমার স্বামী সিরাজুল ইসলাম আমাদের পারিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। আমার স্বামী ও শাশুড়িকে ঋণ দেয়ার কথা বলে আমাদের গ্রামের মোশাহিদ স্ট্যাম্পে দস্তখত নিয়ে দলিল করে নিয়েছে। আমার স্বামী বিচার না পেয়ে ষ্ট্রোক করে মারা গেছেন। আমি এখন কার কাছে যাবো। আমি আমার সন্তানকে কিভাবে লালন পালন করবো, আমি এর বিচার চাই।

এরালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইছাক আলী, রইছ মিয়া, জামলাবাজ গ্রামের আফতাবুজ্জামান জানান, মোশাহিদ মিয়া একজন খারাপ প্রকৃতির লোক। সে সিরাজুল ইসলাম ও তার মা মোছা. আয়শা বেগম কোন লেখা পড়া জানেন না। সেই সুযোগে দুই লক্ষ টাকা ঋণ দেয়ার কথা বলে ষ্ট্যাম্প করে তাহাদের সম্পত্তি হাতিয়েছে। এটা খুবই নিন্দনীয় কাজ। সঠিক সময়ে সঠিক বিচার না পাওয়ায় আজ সিরাজুল ইসলামকেও মরতে হলো।

কাঠইর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মকতছির আলী বলেন, ঋণ দেয়ার নামে প্রতারণা করে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার বিষয়টি বিচার শালিসে প্রমাণিত হয়েছে। অভিযুক্ত মোশাহিদ ও তার লোকজনকে বিচার শালিসে একাধিবার উপস্থিত থাকার চেষ্টা করা হলেও তারা আসে নি। বার বার বিচার চাইতে গিয়ে কোন বিচার না পেয়ে সিরাজুল ইসলাম ও তার মা অকালে মারা গেছেন, এটা খুবই দুঃখজনক।

কাঠরই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুফতি মাওলানা শামছুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছে। বিগত ৪/৫ বছর ধরে আমি সামাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু অভিযুক্তদের বার বার বিচার শালিসে আমন্ত্রন করা হলে, তারা আসে নি। তবে মোশাহিদ মিয়া ও তার লোকজন ভুক্তভোগী পরিবারে জমি প্রতারণা করে দলিল বানিয়েছে, সেটা প্রমাণিত। ভুক্তভোগী পরিবার তাদের জমি কারও কাছে বিক্রি করে নি।