সিলেটের সড়ক যেন মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। মাত্র ২০ ঘণ্টার ব্যবধানে একের পর এক দুর্ঘটনায় নিভে গেছে ছয়টি তাজা প্রাণ। শোক, আর্তনাদ আর রক্তের দাগে ভারী হয়ে উঠেছে নগর ও মহাসড়ক।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সিলেট নগরীর তালতলা এলাকায় ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান দুই যুবক—ইমন দাস (২২) ও দীপ্ত দাস (২৩)। বন্ধুত্বের সেই শেষ যাত্রা আর ঘরে ফেরা হলো না তাদের।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের করিডোরে তখন শুধুই কান্না আর নিস্তব্ধতা।
নিহত ইমন সিলেট নগরের মির্জাজাঙাল এলাকার বাসিন্দা এবং দীপ্ত দাস জিন্দাবাজার এলাকার গৌরাঙ্গ দাসের ছেলে। এক নিমিষেই দুটি পরিবার হারালো তাদের স্বপ্ন, সন্তান আর ভবিষ্যৎ।
কোতোয়ালী থানার এসআই খোরশেদ আলম জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হবে।
এই দুই মৃত্যুর আগেই সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে আরও চারজন প্রাণ হারান সড়ক দুর্ঘটনায়।
শনিবার ভোর সাড়ে ৬টায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন এম মজিবর রহমান (৫৫) ও বকুল রবিদাস (২৬)। আহত হন অন্তত ১২ জন।
সকালে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত হন পিকআপ চালক রাকিব হোসেন (৩০)। আহত হন আরও আটজন।
আর দুপুরে জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল শাহগলী বাজার এলাকায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ যায় মাত্র ৯ বছর বয়সী মাদরাসাছাত্র জুবায়ের আহমদের। শিশুটির নিথর দেহে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো এলাকা।
এক দিনে এতগুলো প্রাণহানিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সিলেটজুড়ে। প্রশ্ন উঠছে—এভাবে আর কত জীবন কেড়ে নেবে সড়ক? দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা কবে নেওয়া হবে?
সিলেটবাসীর চোখে এখন একটাই দাবি—আর নয় মৃত্যু, নিরাপদ সড়ক চাই।

নিজস্ব প্রতিবেদক 









