সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় রেললাইনের পাশে একটি ডোবায় পড়ে থাকা আহত একটি হাতিকে উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (আজ) বেলা আড়াইটার দিকে স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও চিকিৎসক দলের সমন্বিত অভিযানে হাতিটিকে ডোবা থেকে তুলে ডাঙায় আনা হয়।
দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় শনিবার রাত থেকে হাতিটি ডোবায় পড়ে ছিল বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের ধারণা, ট্রেনের ধাক্কায় আহত হয়ে হাতিটি সেখানে পড়ে যায়। তবে ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যায়নি।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম জানান, ট্রেনের ধাক্কায় হাতি আহত হওয়ার বিষয়ে বিভিন্নজনের কাছ থেকে শোনা গেলেও রেলওয়ের কাছে এ ধরনের কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুলতান আহমদ বলেন, ঘটনাস্থলের আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রেনের আঘাতে হাতিটি আহত হয়ে ডোবায় পড়ে যায়। সেখানে মাটি ভাঙা ও গাছপালার ডাল ভাঙার চিহ্ন পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, হাতিটি প্রাপ্তবয়স্ক এবং বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ বছর। দীর্ঘ সময় ডোবায় পড়ে থাকায় হাতিটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এ কারণে তাকে স্যালাইন দেওয়া হয়। এর আগে স্টেরয়েড ও অ্যান্টিহিস্টামিন প্রয়োগ করা হয়।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হাতিটির মালিক মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম। কয়েক দিন আগে একটি অনুষ্ঠানের জন্য হাতিটি সিলেটে আনা হয়েছিল। শনিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে মাহুত হাতিটিকে নিয়ে শিববাড়ি এলাকায় রেললাইন পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে হাতিটির পেছনের পা আহত হয় এবং মাহুতও আঘাত পান।
রোববার সকালে বিষয়টি দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে বন বিভাগ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক দল উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয়। এক্সক্যাভেটরের সঙ্গে রশি বেঁধে হাতিটিকে টেনে ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিহাব সারার অভী জানান, আহত হাতিটির চিকিৎসা চলছে এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।
সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, উদ্ধার শেষে হাতিটিকে মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী চিকিৎসা ও দেখভালের দায়িত্ব মালিকই পালন করবেন।

প্রতিদিনের সিলেট ডেস্ক 









