, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ সিলেটের জৈন্তাপুরে বালুচাপায় যুবকের মৃত্যু সিলেটে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃদ্ধার মৃত্যু সৈয়দুর রহমানের কৃষি প্রকল্প পরিদর্শনে দক্ষিণ সুরমার ইউএনও আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইরান ইরানের মিসাইল হামলায় দুবাইয়ে বড়লেখার প্রবাসী সালেহ মিয়া নিহত যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় হামলা চালাল ইরান দক্ষ জনশক্তি গড়তে বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের বিকল্প নেই : সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটের বালাগঞ্জে নৃশংস হামলা: ছাত্রদল কর্মী শাহ ইসমাইলকে কুপিয়ে হত্যা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলো ইরান

নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাসে ৩৮ ঘণ্টা পর কাজে ফিরছেন ওসমানীর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

আট শর্তের মধ্য দিয়ে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় ৩৮ ঘণ্টা পর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাঁদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস পাওয়ার পর রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘোষণা দেন তাঁরা।

এর আগে শুক্রবার এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় শনিবার মধ্যরাত থেকেই কর্মবিরতিতে যান ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় রোববারও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকে।

রোববার দুপুরে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরের নেতৃত্বে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হাসপাতালের স্পর্শকাতর এলাকায় সার্বক্ষণিক আনসার মোতায়েনসহ মোট আট দফা দাবির বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়।

এসময় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আট দফা দাবিগুলোর মধ্যে ছিল, হাসপাতালে প্রতিটি এডমিশন ইউনিটে ২ জন (একজন পুরুষ ওয়ার্ড ও একজন মহিলা ওয়ার্ড) করে প্রশিক্ষিত আনসার নিয়োজিত থাকতে হবে। এছাড়া ইভিনিংয়ে ১ ঘন্টা পর পর টহল টিম থাকবে, যারা প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে তদারকি করবে। আর রাতে অন কল ইন ইমার্জেন্সি হিসেবে ফোর্স প্রস্তুত থাকতে হবে। রোগীর সাথে সর্বোচ্চ ২ জন এটেন্ডেন্ট থাকতে পারবে। শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন আলাদা সময়ে ভিসিটিং টাইম চালু করতে হবে। সেক্ষেত্রে কোন অবস্থায় একজন রোগীর সাথে ২ জন এর বেশি এটেন্ডেন্ট থাকতে পারবে না। পরিচালক স্যারের সাথে প্রতি মাসে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটা মাসিক সভার ব্যবস্থা করতে হবে। হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে সর্বদা মিডলেভেল ডাক্তার থাকতে হবে। বিশেষ করে এডমিশন এর দিন। অধিকাংশ এসিস্টেন্ট রেজিস্ট্রার ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শিক্ষানবিশ সময়ে তাদের প্রয়োজনীয় শিখানোর ব্যাপারে উদাসীন থাকেন, এ বিষয়ে তাদেরকে আরো দ্বায়িত্বশীল হতে হবে। হাসপাতালে যে পুলিশ বিভাগ নিয়োজিত আছে তাদেরকে হাসপাতালের নিরাপত্তার পরিবেশ সুন্দর রাখতে আরো দ্বায়িত্বশীল ও কার্যকর করতে হবে। নিয়মিত ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়োজিত আনসার ও আউটসোর্সিং কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোটেশন করতে হবে। হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির স্বাধীন প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে হবে, প্রয়োজনে নির্ধারিত ভিসিটিং আওয়ার এর ব্যবস্থা করতে হবে।

বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, আমাদের আটদফা দাবি প্রশাসন মেনে নিয়েছে। তবে এর মধ্যে একটা দাবি, ওয়ার্ডে আনসার মোতায়েনের বিষয়টি আমরা আজকের মধ্যে বাস্তবিকভাবে দেখতে চাই। সেটি হয়ে গেলে আগামীকাল সকাল থেকে ফিরবো আমরা।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

সিলেটে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ

নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাসে ৩৮ ঘণ্টা পর কাজে ফিরছেন ওসমানীর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

প্রকাশের সময় : ০৯:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

আট শর্তের মধ্য দিয়ে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় ৩৮ ঘণ্টা পর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাঁদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস পাওয়ার পর রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘোষণা দেন তাঁরা।

এর আগে শুক্রবার এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় শনিবার মধ্যরাত থেকেই কর্মবিরতিতে যান ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় রোববারও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকে।

রোববার দুপুরে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরের নেতৃত্বে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হাসপাতালের স্পর্শকাতর এলাকায় সার্বক্ষণিক আনসার মোতায়েনসহ মোট আট দফা দাবির বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়।

এসময় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আট দফা দাবিগুলোর মধ্যে ছিল, হাসপাতালে প্রতিটি এডমিশন ইউনিটে ২ জন (একজন পুরুষ ওয়ার্ড ও একজন মহিলা ওয়ার্ড) করে প্রশিক্ষিত আনসার নিয়োজিত থাকতে হবে। এছাড়া ইভিনিংয়ে ১ ঘন্টা পর পর টহল টিম থাকবে, যারা প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে তদারকি করবে। আর রাতে অন কল ইন ইমার্জেন্সি হিসেবে ফোর্স প্রস্তুত থাকতে হবে। রোগীর সাথে সর্বোচ্চ ২ জন এটেন্ডেন্ট থাকতে পারবে। শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন আলাদা সময়ে ভিসিটিং টাইম চালু করতে হবে। সেক্ষেত্রে কোন অবস্থায় একজন রোগীর সাথে ২ জন এর বেশি এটেন্ডেন্ট থাকতে পারবে না। পরিচালক স্যারের সাথে প্রতি মাসে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটা মাসিক সভার ব্যবস্থা করতে হবে। হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে সর্বদা মিডলেভেল ডাক্তার থাকতে হবে। বিশেষ করে এডমিশন এর দিন। অধিকাংশ এসিস্টেন্ট রেজিস্ট্রার ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শিক্ষানবিশ সময়ে তাদের প্রয়োজনীয় শিখানোর ব্যাপারে উদাসীন থাকেন, এ বিষয়ে তাদেরকে আরো দ্বায়িত্বশীল হতে হবে। হাসপাতালে যে পুলিশ বিভাগ নিয়োজিত আছে তাদেরকে হাসপাতালের নিরাপত্তার পরিবেশ সুন্দর রাখতে আরো দ্বায়িত্বশীল ও কার্যকর করতে হবে। নিয়মিত ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়োজিত আনসার ও আউটসোর্সিং কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোটেশন করতে হবে। হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির স্বাধীন প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে হবে, প্রয়োজনে নির্ধারিত ভিসিটিং আওয়ার এর ব্যবস্থা করতে হবে।

বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, আমাদের আটদফা দাবি প্রশাসন মেনে নিয়েছে। তবে এর মধ্যে একটা দাবি, ওয়ার্ডে আনসার মোতায়েনের বিষয়টি আমরা আজকের মধ্যে বাস্তবিকভাবে দেখতে চাই। সেটি হয়ে গেলে আগামীকাল সকাল থেকে ফিরবো আমরা।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।