রাজনীতির মাঠে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাজধানীর গুলশানে তারেক রহমানের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা হওয়া চারটি আসনে বিভিন্ন সুবিধা ও অসুবিধার বিষয় তারেক রহমানকে অবহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে থাকায় নির্বাচনী কার্যক্রমে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।
তিনি বলেন, তারেক রহমান আমাদের আশ্বস্ত করেছেন—যেসব পদক্ষেপ নিলে কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হবে, সেসব পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করবেন।
এই বৈঠকের পরপরই রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে—দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঠেকাতে কি এবার চূড়ান্ত হস্তক্ষেপে যাচ্ছেন তারেক রহমান? শেষ পর্যন্ত কি দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশে আলোচিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে দেবেন?
এরই মধ্যে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে সিলেট-৫ আসনের রাজনীতিতে। মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়া মামুনুর রশীদ, যিনি চাকসু মামুন নামেই বেশি পরিচিত, নির্বাচন থেকে সরে না গিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনতে দিন-রাত মাঠে কাজ করছেন। তাকে কেন্দ্র করেই সিলেট-৫ আসনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন বেশ সরগরম।
এদিকে, তারেক রহমানের সঙ্গে জমিয়ত নেতাদের বৈঠকের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ‘গরম’ পোস্ট দেন চাকসু মামুন। পোস্টে তিনি লেখেন—
“যাদের প্ররোচনায় আমার ৪৫ বছরের রাজনৈতিক আদর্শিক জায়গা থেকে আমাকে বহিষ্কার করানো হয়েছে, তারাই আবার নেতাদের পায়ে পড়ে আমার সঙ্গে সমঝোতা করতে চাইছেন? নির্বাচনে বিজয় ছাড়া অন্য কোনো সমঝোতা নেই।”
এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, আর সিলেট-৫ আসনের ভোটের হিসাব কোন দিকে মোড় নেয়—সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।

নিজস্ব প্রতিবেদক 



















