, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শিক্ষার্থীদের বড় মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখাতে হবে: লিটলবার্ড কিন্ডারগার্টেন এ সংবর্ধনা সিলেটে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ২ নেতার বাসা থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার খাল খননে প্রাণ ফিরেছে দক্ষিণ সুরমার কৃষিতে, সেচ সুবিধায় হাসি ফিরেছে হাজারো কৃষকের মুখে সিলেটে বাল্যবিবাহ রুখে দিল উপজেলা প্রশাসন, মুচলেকায় বন্ধ হলো বিয়ে খালেদা জিয়ার ঐতিহ্য বজায় রেখে সিলেট থেকে প্রচার শুরু করছেন তারেক রহমান সুনামগঞ্জে হাওরে তাণ্ডব: হাঁসের খামারে সশস্ত্র হামলা ও লুটপাট, মালিকসহ তিনজন রক্তাক্ত মৌলভীবাজারে ডাকাতি করে পালানোর সময় অস্ত্র ও লুন্ঠিত মালামালসহ আটক ৪ বাংলাদেশসহ চার দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়া কঠিন করল অস্ট্রেলিয়া সিলেটের বেলুন ভারতে, আসামে আতঙ্কে পুলিশ সিলেটে যাত্রীবেশে ভয়ংকর ছিনতাই চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার সিএনজি

সিলেটের ছয়টি আসনে কোটিপতিদের ছড়াছড়ি, সম্পদে এগিয়ে বিএনপির প্রার্থীরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে অর্থবিত্তের শক্ত অবস্থান। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর অন্তত ১০ জন প্রার্থীই কোটিপতি। সম্পদের হিসাবে জামায়াতের তুলনায় বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে থাকলেও উভয় দলেই ধনাঢ্য প্রার্থীর আধিক্য স্পষ্ট।

হলফনামা অনুযায়ী, ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপির প্রার্থী রয়েছে। একটি আসনে কৌশলগত কারণে বিএনপি দুজনকে মনোনয়ন দিয়েছে, যাদের মধ্য থেকে একজনকে চূড়ান্ত করা হবে। অপর একটি আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী রয়েছেন। তবে ছয়টি আসনেই জামায়াতে ইসলামী দলীয় প্রার্থী দিয়েছে। সব মিলিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও জমিয়তের মোট ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনই কোটিপতি।

বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট-১ আসনের খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, সিলেট-২ এর তাহসিনা রুশদীর, সিলেট-৩ এর এম এ মালিক এবং সিলেট-৪ এর আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট-৬ আসনে এমরান আহমদ চৌধুরী ও ফয়সল আহমদ চৌধুরীর মধ্যে একজন চূড়ান্ত প্রার্থী হবেন। সিলেট-৫ আসনে বিএনপির জোটপ্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা হলেন সিলেট-১ এ হাবিবুর রহমান, সিলেট-২ এ মো. আবদুল হান্নান, সিলেট-৩ এ লোকমান আহমদ, সিলেট-৪ এ মো. জয়নাল আবেদীন, সিলেট-৫ এ মো. আনওয়ার হোসাইন খান এবং সিলেট-৬ এ মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

হলফনামায় দেখা গেছে, ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে এম এ মালিক বর্তমানে কোনো পেশায় নিয়োজিত নন। অন্যদের মধ্যে ৯ জন ব্যবসায়ী, একজন অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী, একজন শিক্ষক ও একজন আইনজীবী রয়েছেন। সম্পদের হিসাবে শীর্ষে রয়েছেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ কয়েক দশক কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তাঁর পরেই আছেন আরিফুল হক চৌধুরী, ফয়সল আহমদ চৌধুরী, এম এ মালিক ও তাহসিনা রুশদীর। জামায়াতের মধ্যে সম্পদশালী হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন হাবিবুর রহমান ও আবদুল হান্নান।

বার্ষিক আয়ের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে ফয়সল আহমদ চৌধুরী। তাঁর আয় ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বেশি। অন্যদিকে কয়েকজন প্রার্থীর বার্ষিক আয় ৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। নগদ অর্থের হিসাবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর সবার ওপরে রয়েছেন। তাঁর হাতে ৬৪ লাখ টাকার বেশি নগদ রয়েছে। এম এ মালিকের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদেশি মুদ্রাও রয়েছে, যদিও তাঁর নগদ অর্থ তুলনামূলকভাবে কম।

অস্থাবর ও স্থাবর—দুই ক্ষেত্রেই খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর শীর্ষে অবস্থান করছেন। তাঁর অস্থাবর সম্পদ প্রায় ১৬ কোটি টাকা এবং স্থাবর সম্পদ প্রায় ১৯ কোটি টাকা। এরপর সম্পদের তালিকায় রয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী ও ফয়সল আহমদ চৌধুরী। দায়ের হিসাবে দেখা গেছে, ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জন কোনো ধরনের দায় দেখাননি। তবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর ও আরিফুল হক চৌধুরীর নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যাংকঋণ রয়েছে।

আয়কর রিটার্নেও সম্পদের বড় ব্যবধান স্পষ্ট। সর্বোচ্চ সম্পদ দেখিয়েছেন ফয়সল আহমদ চৌধুরী, যিনি চলতি অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি আয়কর পরিশোধ করেছেন। বিপরীতে একজন প্রার্থী মাত্র কয়েক হাজার টাকা আয়কর দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে সিলেটের এবারের নির্বাচনে আদর্শের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বড় প্রভাবক হিসেবে সামনে এসেছে। বিপুল সম্পদের মালিক প্রার্থীরা ভোটের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলবেন, সেটিই এখন সবার আলোচনার বিষয়।

জনপ্রিয়

শিক্ষার্থীদের বড় মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখাতে হবে: লিটলবার্ড কিন্ডারগার্টেন এ সংবর্ধনা

সিলেটের ছয়টি আসনে কোটিপতিদের ছড়াছড়ি, সম্পদে এগিয়ে বিএনপির প্রার্থীরা

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে অর্থবিত্তের শক্ত অবস্থান। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর অন্তত ১০ জন প্রার্থীই কোটিপতি। সম্পদের হিসাবে জামায়াতের তুলনায় বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে থাকলেও উভয় দলেই ধনাঢ্য প্রার্থীর আধিক্য স্পষ্ট।

হলফনামা অনুযায়ী, ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপির প্রার্থী রয়েছে। একটি আসনে কৌশলগত কারণে বিএনপি দুজনকে মনোনয়ন দিয়েছে, যাদের মধ্য থেকে একজনকে চূড়ান্ত করা হবে। অপর একটি আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী রয়েছেন। তবে ছয়টি আসনেই জামায়াতে ইসলামী দলীয় প্রার্থী দিয়েছে। সব মিলিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও জমিয়তের মোট ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনই কোটিপতি।

বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট-১ আসনের খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, সিলেট-২ এর তাহসিনা রুশদীর, সিলেট-৩ এর এম এ মালিক এবং সিলেট-৪ এর আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট-৬ আসনে এমরান আহমদ চৌধুরী ও ফয়সল আহমদ চৌধুরীর মধ্যে একজন চূড়ান্ত প্রার্থী হবেন। সিলেট-৫ আসনে বিএনপির জোটপ্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা হলেন সিলেট-১ এ হাবিবুর রহমান, সিলেট-২ এ মো. আবদুল হান্নান, সিলেট-৩ এ লোকমান আহমদ, সিলেট-৪ এ মো. জয়নাল আবেদীন, সিলেট-৫ এ মো. আনওয়ার হোসাইন খান এবং সিলেট-৬ এ মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

হলফনামায় দেখা গেছে, ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে এম এ মালিক বর্তমানে কোনো পেশায় নিয়োজিত নন। অন্যদের মধ্যে ৯ জন ব্যবসায়ী, একজন অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী, একজন শিক্ষক ও একজন আইনজীবী রয়েছেন। সম্পদের হিসাবে শীর্ষে রয়েছেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ কয়েক দশক কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তাঁর পরেই আছেন আরিফুল হক চৌধুরী, ফয়সল আহমদ চৌধুরী, এম এ মালিক ও তাহসিনা রুশদীর। জামায়াতের মধ্যে সম্পদশালী হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন হাবিবুর রহমান ও আবদুল হান্নান।

বার্ষিক আয়ের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে ফয়সল আহমদ চৌধুরী। তাঁর আয় ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বেশি। অন্যদিকে কয়েকজন প্রার্থীর বার্ষিক আয় ৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। নগদ অর্থের হিসাবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর সবার ওপরে রয়েছেন। তাঁর হাতে ৬৪ লাখ টাকার বেশি নগদ রয়েছে। এম এ মালিকের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদেশি মুদ্রাও রয়েছে, যদিও তাঁর নগদ অর্থ তুলনামূলকভাবে কম।

অস্থাবর ও স্থাবর—দুই ক্ষেত্রেই খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর শীর্ষে অবস্থান করছেন। তাঁর অস্থাবর সম্পদ প্রায় ১৬ কোটি টাকা এবং স্থাবর সম্পদ প্রায় ১৯ কোটি টাকা। এরপর সম্পদের তালিকায় রয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী ও ফয়সল আহমদ চৌধুরী। দায়ের হিসাবে দেখা গেছে, ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জন কোনো ধরনের দায় দেখাননি। তবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর ও আরিফুল হক চৌধুরীর নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যাংকঋণ রয়েছে।

আয়কর রিটার্নেও সম্পদের বড় ব্যবধান স্পষ্ট। সর্বোচ্চ সম্পদ দেখিয়েছেন ফয়সল আহমদ চৌধুরী, যিনি চলতি অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি আয়কর পরিশোধ করেছেন। বিপরীতে একজন প্রার্থী মাত্র কয়েক হাজার টাকা আয়কর দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে সিলেটের এবারের নির্বাচনে আদর্শের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বড় প্রভাবক হিসেবে সামনে এসেছে। বিপুল সম্পদের মালিক প্রার্থীরা ভোটের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলবেন, সেটিই এখন সবার আলোচনার বিষয়।