, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শিক্ষার্থীদের বড় মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখাতে হবে: লিটলবার্ড কিন্ডারগার্টেন এ সংবর্ধনা সিলেটে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ২ নেতার বাসা থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার খাল খননে প্রাণ ফিরেছে দক্ষিণ সুরমার কৃষিতে, সেচ সুবিধায় হাসি ফিরেছে হাজারো কৃষকের মুখে সিলেটে বাল্যবিবাহ রুখে দিল উপজেলা প্রশাসন, মুচলেকায় বন্ধ হলো বিয়ে খালেদা জিয়ার ঐতিহ্য বজায় রেখে সিলেট থেকে প্রচার শুরু করছেন তারেক রহমান সুনামগঞ্জে হাওরে তাণ্ডব: হাঁসের খামারে সশস্ত্র হামলা ও লুটপাট, মালিকসহ তিনজন রক্তাক্ত মৌলভীবাজারে ডাকাতি করে পালানোর সময় অস্ত্র ও লুন্ঠিত মালামালসহ আটক ৪ বাংলাদেশসহ চার দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়া কঠিন করল অস্ট্রেলিয়া সিলেটের বেলুন ভারতে, আসামে আতঙ্কে পুলিশ সিলেটে যাত্রীবেশে ভয়ংকর ছিনতাই চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার সিএনজি

হকারদের দখলে সিলেটের ফুটপাত: প্রশাসন চুপ, নগরবাসীর চরম দুর্ভোগ

সিলেট নগরীর বাণিজ্যিক কেন্দ্র জিন্দাবাজারে প্রকাশ্যেই ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে হকাররা। জনসাধারণের চলাচলের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত এখন পুরোপুরি দখল হয়ে পণ্যের বাজারে রূপ নিয়েছে। দিনের পর দিন এই অবৈধ দখল চললেও পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও সিটি কর্পোরেশনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) জিন্দাবাজার এলাকায় তোলা ছবিতে স্পষ্ট দেখা যায়, ফুটপাত জুড়ে কাপড়, জুতা, মানিব্যাগ ও বিভিন্ন পণ্য সাজিয়ে বসেছে হকাররা। কোথাও কোথাও ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কের ওপরেও দোকান বসানো হয়েছে। ফলে পথচারীরা বাধ্য হচ্ছেন যানবাহনের সঙ্গে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় হাঁটতে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দখল নতুন নয়। বছরের পর বছর ধরে জিন্দাবাজার ফুটপাত হকারদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান শুধুই লোক দেখানো। দু–একদিনের জন্য অভিযান চালিয়ে দায় সারা হয়, এরপর আবার আগের মতোই অবৈধ দখল ফিরে আসে।

নগরবাসীর প্রশ্ন—এই অবৈধ ব্যবসা কি প্রশাসনের অজানা? নাকি নিরব দর্শকের ভূমিকায় থেকে দায়িত্ব এড়ানো হচ্ছে? ব্যস্ত এই এলাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করলেও জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়টি যেন কারও নজরে নেই।

সচেতন মহলের মতে, সিলেট সিটি কর্পোরেশন ফুটপাত রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মহানগর পুলিশের সমন্বয়হীনতার সুযোগ নিয়ে হকাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আইন প্রয়োগের পরিবর্তে নীরবতা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই প্রমাণ।

ফুটপাত দখলের ফলে শুধু জনদুর্ভোগই নয়, বাড়ছে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি। অথচ দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে নেই কোনো জবাবদিহি কিংবা স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ।

নগরবাসীর স্পষ্ট দাবি—লোক দেখানো অভিযান নয়, অবিলম্বে কঠোর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় প্রশ্ন থেকেই যাবে— সিলেট নগরে প্রশাসনের কর্তৃত্ব আদৌ আছে কি না?

জনপ্রিয়

শিক্ষার্থীদের বড় মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখাতে হবে: লিটলবার্ড কিন্ডারগার্টেন এ সংবর্ধনা

হকারদের দখলে সিলেটের ফুটপাত: প্রশাসন চুপ, নগরবাসীর চরম দুর্ভোগ

প্রকাশের সময় : ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

সিলেট নগরীর বাণিজ্যিক কেন্দ্র জিন্দাবাজারে প্রকাশ্যেই ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে হকাররা। জনসাধারণের চলাচলের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত এখন পুরোপুরি দখল হয়ে পণ্যের বাজারে রূপ নিয়েছে। দিনের পর দিন এই অবৈধ দখল চললেও পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও সিটি কর্পোরেশনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) জিন্দাবাজার এলাকায় তোলা ছবিতে স্পষ্ট দেখা যায়, ফুটপাত জুড়ে কাপড়, জুতা, মানিব্যাগ ও বিভিন্ন পণ্য সাজিয়ে বসেছে হকাররা। কোথাও কোথাও ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কের ওপরেও দোকান বসানো হয়েছে। ফলে পথচারীরা বাধ্য হচ্ছেন যানবাহনের সঙ্গে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় হাঁটতে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দখল নতুন নয়। বছরের পর বছর ধরে জিন্দাবাজার ফুটপাত হকারদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান শুধুই লোক দেখানো। দু–একদিনের জন্য অভিযান চালিয়ে দায় সারা হয়, এরপর আবার আগের মতোই অবৈধ দখল ফিরে আসে।

নগরবাসীর প্রশ্ন—এই অবৈধ ব্যবসা কি প্রশাসনের অজানা? নাকি নিরব দর্শকের ভূমিকায় থেকে দায়িত্ব এড়ানো হচ্ছে? ব্যস্ত এই এলাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করলেও জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়টি যেন কারও নজরে নেই।

সচেতন মহলের মতে, সিলেট সিটি কর্পোরেশন ফুটপাত রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মহানগর পুলিশের সমন্বয়হীনতার সুযোগ নিয়ে হকাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আইন প্রয়োগের পরিবর্তে নীরবতা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই প্রমাণ।

ফুটপাত দখলের ফলে শুধু জনদুর্ভোগই নয়, বাড়ছে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি। অথচ দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে নেই কোনো জবাবদিহি কিংবা স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ।

নগরবাসীর স্পষ্ট দাবি—লোক দেখানো অভিযান নয়, অবিলম্বে কঠোর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় প্রশ্ন থেকেই যাবে— সিলেট নগরে প্রশাসনের কর্তৃত্ব আদৌ আছে কি না?