, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শিক্ষার্থীদের বড় মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখাতে হবে: লিটলবার্ড কিন্ডারগার্টেন এ সংবর্ধনা সিলেটে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ২ নেতার বাসা থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার খাল খননে প্রাণ ফিরেছে দক্ষিণ সুরমার কৃষিতে, সেচ সুবিধায় হাসি ফিরেছে হাজারো কৃষকের মুখে সিলেটে বাল্যবিবাহ রুখে দিল উপজেলা প্রশাসন, মুচলেকায় বন্ধ হলো বিয়ে খালেদা জিয়ার ঐতিহ্য বজায় রেখে সিলেট থেকে প্রচার শুরু করছেন তারেক রহমান সুনামগঞ্জে হাওরে তাণ্ডব: হাঁসের খামারে সশস্ত্র হামলা ও লুটপাট, মালিকসহ তিনজন রক্তাক্ত মৌলভীবাজারে ডাকাতি করে পালানোর সময় অস্ত্র ও লুন্ঠিত মালামালসহ আটক ৪ বাংলাদেশসহ চার দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়া কঠিন করল অস্ট্রেলিয়া সিলেটের বেলুন ভারতে, আসামে আতঙ্কে পুলিশ সিলেটে যাত্রীবেশে ভয়ংকর ছিনতাই চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার সিএনজি

ছিটমহল চুক্তির পর সিলেট সীমান্তে এক ইঞ্চি জমিও পায়নি বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সীমান্তের দুই পাশে দেড়শ গজ করে নোম্যান্স ল্যান্ড থাকার কথা থাকলেও সিলেটের গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকায় সেই বাস্তবতা নেই। তামাবিল স্থলবন্দর সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে মাত্র ১৫–২০ গজ দূরেই ভারতের সীমান্ত শুরু হয়ে গেছে। নোম্যান্স ল্যান্ড সংকুচিত হয়ে পড়ায় সীমান্তবর্তী টিলা ও মাঠ এখন ভারতের নিয়ন্ত্রণে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে ২০১৫ সালের ছিটমহল বিনিময় চুক্তির সুযোগ নিয়ে ভারত ধাপে ধাপে সিলেট সীমান্তের অন্তত ২০০ একর ভূমি দখলে নিয়েছে। অথচ এই চুক্তির আওতায় সিলেট সীমান্তে বাংলাদেশ এক ইঞ্চি জমিও পায়নি।

গোয়াইনঘাটের নলজুড়ি এলাকায় ‘ভাইরাল খেলার মাঠ’ নামে পরিচিত একটি মাঠ দীর্ঘদিন ধরে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণ বারবার প্রতিরোধ গড়ে তুললেও পরিস্থিতি আজও উত্তেজনাপূর্ণ। স্থানীয়রা বলছেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময় মুজিব–ইন্দিরা চুক্তির দোহাই দিয়ে মাঠটি নিজেদের দাবি করছে ভারত, তবে এলাকাবাসী সেই দাবি মানতে নারাজ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে পাদুয়া, প্রতাপপুর, নলজুড়ি, আমস্বপ্ন, তামাবিল, কুলুমছড়া ও বিছানাকান্দি এলাকায় একাধিকবার বিএসএফ–বিজিবি মুখোমুখি অবস্থান ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পাদুয়া ও বড়াইবাড়ি সীমান্ত সংঘর্ষে দুই দেশের অন্তত ২১ জন নিহত হন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জরিপ ও সীমান্ত চিহ্নিতকরণের নামে বাংলাদেশের ভেতর থেকেই পরিমাপ করা হয়, যার ফলে কৃষিজমি, হাওর, চারণভূমি ও খেলার মাঠ ভারতের অংশে চলে যায়। তামাবিল শুল্ক স্টেশন সংলগ্ন নোম্যান্স ল্যান্ড এবং শাপলা বিল এলাকাতেও এখন বাংলাদেশিদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাটের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণেই বিজিবিকে একাধিকবার পিছু হটতে বাধ্য করা হয়। এতে সীমান্তে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, সীমান্তের ভূমি সংক্রান্ত বিষয়গুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কূটনৈতিক। সবকিছু বিজিবির পর্যবেক্ষণে রয়েছে, তবে বর্তমানে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

স্থানীয়দের দাবি, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সিলেট সীমান্তের দখল হওয়া ভূমি পুনরুদ্ধারে এখনই কার্যকর কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।

জনপ্রিয়

শিক্ষার্থীদের বড় মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখাতে হবে: লিটলবার্ড কিন্ডারগার্টেন এ সংবর্ধনা

ছিটমহল চুক্তির পর সিলেট সীমান্তে এক ইঞ্চি জমিও পায়নি বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ০১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সীমান্তের দুই পাশে দেড়শ গজ করে নোম্যান্স ল্যান্ড থাকার কথা থাকলেও সিলেটের গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকায় সেই বাস্তবতা নেই। তামাবিল স্থলবন্দর সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে মাত্র ১৫–২০ গজ দূরেই ভারতের সীমান্ত শুরু হয়ে গেছে। নোম্যান্স ল্যান্ড সংকুচিত হয়ে পড়ায় সীমান্তবর্তী টিলা ও মাঠ এখন ভারতের নিয়ন্ত্রণে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে ২০১৫ সালের ছিটমহল বিনিময় চুক্তির সুযোগ নিয়ে ভারত ধাপে ধাপে সিলেট সীমান্তের অন্তত ২০০ একর ভূমি দখলে নিয়েছে। অথচ এই চুক্তির আওতায় সিলেট সীমান্তে বাংলাদেশ এক ইঞ্চি জমিও পায়নি।

গোয়াইনঘাটের নলজুড়ি এলাকায় ‘ভাইরাল খেলার মাঠ’ নামে পরিচিত একটি মাঠ দীর্ঘদিন ধরে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণ বারবার প্রতিরোধ গড়ে তুললেও পরিস্থিতি আজও উত্তেজনাপূর্ণ। স্থানীয়রা বলছেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময় মুজিব–ইন্দিরা চুক্তির দোহাই দিয়ে মাঠটি নিজেদের দাবি করছে ভারত, তবে এলাকাবাসী সেই দাবি মানতে নারাজ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে পাদুয়া, প্রতাপপুর, নলজুড়ি, আমস্বপ্ন, তামাবিল, কুলুমছড়া ও বিছানাকান্দি এলাকায় একাধিকবার বিএসএফ–বিজিবি মুখোমুখি অবস্থান ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পাদুয়া ও বড়াইবাড়ি সীমান্ত সংঘর্ষে দুই দেশের অন্তত ২১ জন নিহত হন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জরিপ ও সীমান্ত চিহ্নিতকরণের নামে বাংলাদেশের ভেতর থেকেই পরিমাপ করা হয়, যার ফলে কৃষিজমি, হাওর, চারণভূমি ও খেলার মাঠ ভারতের অংশে চলে যায়। তামাবিল শুল্ক স্টেশন সংলগ্ন নোম্যান্স ল্যান্ড এবং শাপলা বিল এলাকাতেও এখন বাংলাদেশিদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাটের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণেই বিজিবিকে একাধিকবার পিছু হটতে বাধ্য করা হয়। এতে সীমান্তে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, সীমান্তের ভূমি সংক্রান্ত বিষয়গুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কূটনৈতিক। সবকিছু বিজিবির পর্যবেক্ষণে রয়েছে, তবে বর্তমানে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

স্থানীয়দের দাবি, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সিলেট সীমান্তের দখল হওয়া ভূমি পুনরুদ্ধারে এখনই কার্যকর কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।