সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকার করিমউল্লাহ মার্কেট ও সিটি হার্ট শপিং সেন্টারকে কেন্দ্র করে চোরাই মোবাইল ফোন ব্যবসার একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা তৎপরতার পর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) এ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বিপুলসংখ্যক চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি ও ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন হাত বদলে চলে যায় একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের কাছে। এসব ফোন প্রথমে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পাঠানো হয়। ভারতের শিলংসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির পর আবার কিছু ফোন বাংলাদেশে আনা হয়। দেশে এনে সেগুলোর আইএমআই নম্বর পরিবর্তন করে সিলেট নগরীর করিমউল্লাহ মার্কেট ও সিটি হার্টের বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির নিজস্ব দক্ষ কারিগর রয়েছে যারা বাসাবাড়িতে বসেই প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল ফোনের আইএমআই নম্বর পরিবর্তন করে। অপেক্ষাকৃত পুরোনো ও কম দামের ফোনগুলো পার্টস খুলে আলাদাভাবে বিক্রি করা হয়। আর দামি ফোনগুলো আইএমআই পরিবর্তনের পর নতুন ফোন হিসেবে বাজারে ছাড়া হয়। এমনকি লন্ডনসহ বিদেশ থেকেও চোরাই আইফোন আসার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
এসএমপি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক এই চোরাই মোবাইল সিন্ডিকেটকে ধরতে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ ডিসেম্বর দক্ষিণ সুরমার মোমিনখলার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে সুজ্জাত নামের এক যুবককে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৩৮টি চোরাই মোবাইল ফোন। একই দিন শিববাড়ি জৈনপুর এলাকার একটি বাসা থেকে ২৬টি চোরাই ফোনসহ আবদুস শহিদ ও আকরাম আলী নামে আরও দুইজনকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা দীর্ঘদিন ধরে আইএমআই নম্বর পরিবর্তনের কাজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বন্দরবাজারস্থ করিমউল্লাহ মার্কেটের তৃতীয় তলার ‘স্মার্টফোন গ্যালারি’ এবং সিটি হার্ট শপিং সেন্টারের দ্বিতীয় তলার ‘তোহা টেলিকম’-এ অভিযান চালায়। অভিযানে তোহা টেলিকম থেকে ২০৪টি এবং স্মার্টফোন গ্যালারি থেকে ১৫৪টি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মোট ৪২২টি ফোনের বেশিরভাগেরই আইএমআই নম্বর পরিবর্তন করা ছিল এবং এর অধিকাংশই ভারত থেকে চোরাই পথে আনা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
এসএমপির মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সিলেটে চোরাই মোবাইল ফোন ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক চক্র সক্রিয় রয়েছে। এ পর্যন্ত চক্রের চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 









