, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ সিলেটের জৈন্তাপুরে বালুচাপায় যুবকের মৃত্যু সিলেটে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃদ্ধার মৃত্যু সৈয়দুর রহমানের কৃষি প্রকল্প পরিদর্শনে দক্ষিণ সুরমার ইউএনও আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইরান ইরানের মিসাইল হামলায় দুবাইয়ে বড়লেখার প্রবাসী সালেহ মিয়া নিহত যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় হামলা চালাল ইরান দক্ষ জনশক্তি গড়তে বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের বিকল্প নেই : সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটের বালাগঞ্জে নৃশংস হামলা: ছাত্রদল কর্মী শাহ ইসমাইলকে কুপিয়ে হত্যা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলো ইরান

লন্ডনে ২য় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিসৌধে বাবার নাম চান না সিলেটের আতাউর

লন্ডনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ টাওয়ার হিল মেমোরিয়াল থেকে নিজের বাবার নাম বাদ দেওয়ার ‘অনুরোধ’ জানিয়েছেন সিলেটের বাসিন্দা আতাউর রহমান।

সৌধে গিয়ে বাবার প্রতি সম্মান জানাতে গত ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যের ভিসার আবেদন করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আবেদন নাকচ করে দেয় ব্রিটিশ সরকার।

মূলত এ অভিমান থেকেই ৮৬ বছর বয়সী আতাউর বলছেন, যেহেতু আমাদের সম্মান জানানোর অধিকার নেই, তাই সেখানে আমার বাবার নাম থাকার কোনো যুক্তি নেই।

ব্রিটিশ সরকারকে বলব, স্মৃতিসৌধের পাশাপাশি যুদ্ধের কমনওয়েলথ সংক্রান্ত রেকর্ড থেকে আমার বাবার নাম স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হোক।

আতাউরের বাবার নাম এরশাদ আলী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি মিত্রবাহিনীর হয়ে মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত ছিলেন।

ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়, ১৯৪৪ সালের ১৯ জুন মৃত্যু হয় এরশাদ আলীর। ওই দিন নেদারল্যান্ডসের কার্গো জাহাজে ছিলেন তিনি। একটি টর্পেডোর আঘাতে জাহাজটি ধ্বংস হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অবদানের জন্য এরশাদ আলী পাঁচটি পদক পেয়েছেন। এগুলো হলো- বার্মা স্টার, আটলান্টিক স্টার, ১৯৩৯-৪৫ স্টার, ১৯৩৯-৪৫ ওয়ার মেডাল ও ডাচ মোবিলাইজেশন ওয়ার ক্রস। টাওয়ার হিল মেমোরিয়ালে আরো অনেকের সঙ্গে এরশাদ আলীর নামও খোদাই করা আছে।

আতাউর রহমান বলেন, আমার বয়স যখন ছয় মাস, তখন বাবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তার আর বাড়ি ফেরা হয়নি।সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হল, আমি বাবাকে কখনো দেখিনি।

তিনি বলেন, আমার ছেলে সুহেল, সে তার দাদার মৃত্যুর ৭৫ বছর পর সব নথি সংগ্রহ করে। তিন বছর ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর সে তার দাদার স্বীকৃতি পায়।

আমি মনে করি, ভিসা কর্মকর্তা ইচ্ছা করে ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। আমি মনে করি, এটা মানবতাবিরোধী একটা অপরাধ।

আতাউর রহমান মনে করেন, ভিসা আবেদন নাকচ করার মাধ্যমে কেবল তার বাবাকে অপমান করা হয়নি; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সবাইকে অপমান করা হয়েছে।

সিলেটে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ

লন্ডনে ২য় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিসৌধে বাবার নাম চান না সিলেটের আতাউর

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫

লন্ডনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ টাওয়ার হিল মেমোরিয়াল থেকে নিজের বাবার নাম বাদ দেওয়ার ‘অনুরোধ’ জানিয়েছেন সিলেটের বাসিন্দা আতাউর রহমান।

সৌধে গিয়ে বাবার প্রতি সম্মান জানাতে গত ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যের ভিসার আবেদন করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আবেদন নাকচ করে দেয় ব্রিটিশ সরকার।

মূলত এ অভিমান থেকেই ৮৬ বছর বয়সী আতাউর বলছেন, যেহেতু আমাদের সম্মান জানানোর অধিকার নেই, তাই সেখানে আমার বাবার নাম থাকার কোনো যুক্তি নেই।

ব্রিটিশ সরকারকে বলব, স্মৃতিসৌধের পাশাপাশি যুদ্ধের কমনওয়েলথ সংক্রান্ত রেকর্ড থেকে আমার বাবার নাম স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হোক।

আতাউরের বাবার নাম এরশাদ আলী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি মিত্রবাহিনীর হয়ে মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত ছিলেন।

ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়, ১৯৪৪ সালের ১৯ জুন মৃত্যু হয় এরশাদ আলীর। ওই দিন নেদারল্যান্ডসের কার্গো জাহাজে ছিলেন তিনি। একটি টর্পেডোর আঘাতে জাহাজটি ধ্বংস হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অবদানের জন্য এরশাদ আলী পাঁচটি পদক পেয়েছেন। এগুলো হলো- বার্মা স্টার, আটলান্টিক স্টার, ১৯৩৯-৪৫ স্টার, ১৯৩৯-৪৫ ওয়ার মেডাল ও ডাচ মোবিলাইজেশন ওয়ার ক্রস। টাওয়ার হিল মেমোরিয়ালে আরো অনেকের সঙ্গে এরশাদ আলীর নামও খোদাই করা আছে।

আতাউর রহমান বলেন, আমার বয়স যখন ছয় মাস, তখন বাবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তার আর বাড়ি ফেরা হয়নি।সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হল, আমি বাবাকে কখনো দেখিনি।

তিনি বলেন, আমার ছেলে সুহেল, সে তার দাদার মৃত্যুর ৭৫ বছর পর সব নথি সংগ্রহ করে। তিন বছর ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর সে তার দাদার স্বীকৃতি পায়।

আমি মনে করি, ভিসা কর্মকর্তা ইচ্ছা করে ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। আমি মনে করি, এটা মানবতাবিরোধী একটা অপরাধ।

আতাউর রহমান মনে করেন, ভিসা আবেদন নাকচ করার মাধ্যমে কেবল তার বাবাকে অপমান করা হয়নি; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সবাইকে অপমান করা হয়েছে।