, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ সিলেটের জৈন্তাপুরে বালুচাপায় যুবকের মৃত্যু সিলেটে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃদ্ধার মৃত্যু সৈয়দুর রহমানের কৃষি প্রকল্প পরিদর্শনে দক্ষিণ সুরমার ইউএনও আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইরান ইরানের মিসাইল হামলায় দুবাইয়ে বড়লেখার প্রবাসী সালেহ মিয়া নিহত যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় হামলা চালাল ইরান দক্ষ জনশক্তি গড়তে বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের বিকল্প নেই : সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটের বালাগঞ্জে নৃশংস হামলা: ছাত্রদল কর্মী শাহ ইসমাইলকে কুপিয়ে হত্যা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলো ইরান

ছাতকে সাবেক এমপি মানিকের প্রভাবে শূন্য থেকে কোটিপতি চেয়ারম্যান আওলাদ

  • ছাতক প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ১০:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫
  • ১৩১ পড়া হয়েছে

আত্মগোপনে থেকে রক্ষা পাননি ছাতক উপজেলার কৃষক লীগের আহ্বায়ক ও ভাতগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন। অবশেষে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তিনি উপজেলার ভাতগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। বুধবার রাতে পুলিশ অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযান পরিচালনা করে তার নিজ বাড়ি সংলগ্ন হায়দরপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানায়, সাবেক এমপি মানিকের কৃপায় বেকার থেকে ইউপি চেয়ারম্যান বনে যান তিনি। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আত্মগোপনে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১১ সালের নির্বাচনে ভাতগাঁও ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আওলাদ হোসেন। এক সময় বেসরকারি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক ছিলেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষকতার পেশার পাশাপাশি থানার দালালি শুরু করেন। ২০১১ সালে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর রাজনীতিতে সাবেক এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের চাচাতো ভাই উপজেলার যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাব শুরু হলে তিনি বিল্লাল আহমদের পেছনে অর্থ লগ্নি করা শুরু করেন। ২০১৮ সালে উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক পদ বাগিয়ে নেন আওলাদ হোসেন।

আওলাদ হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে কয়েক বছরের ব্যবধানে শূন্য থেকে কোটিপতি হয়েছেন। তার টাকার উৎস ছিল ভুয়া প্রকল্প দালালি জমি দখল ও বেচাকেনা। অবৈধভাবে উপার্জিত টাকার সিংহভাগই লন্ডনে পাঠিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ প্রশাসন এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, তার গ্রামের বাড়ির হাওড়ের ভাতগাঁও মৌজায় প্রায় ৩০ একর জমি কিনেছেন তিনি।

সিলেটের আখলিয়া এলাকায় আব্দুল মান্নান ভিলা নামে তার বাবার নামে আলিশান বাড়ি রয়েছে। যা তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর করেছেন। এছাড়া তার ছেলে ৩০ লাখ টাকার বিনিময় লন্ডনে পাঠিয়েছে। আওলাদ হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর নিজেকে সাবেক এমপি মানিকের চেয়ারম্যান হিসাবে পরিচয় দেওয়া শুরু করেন। কাজ না করেই টিআর, কাবিখা, জিআর, কাবিটার টাকা ও চাল উঠিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আওলাদ হোসেন ভিজিডি, ইউপি ট্যাক্স, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ফি, ১% খাতের টাকা খেয়ালখুশিমতো ব্যবহার করতেন। এছাড়া নিজের লোকদের বিভিন্ন সরকারি কার্ড ও বরাদ্দ দিতেন এবং নিজের মনোনীত লোক দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করাতেন। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড, বিভিন্ন প্রকার ভাতা, আশ্রয়ণ প্রকল্প ও মুজিব বর্ষের ঘর, সরকারি মাটি বিক্রি, ওয়ারেশ কায়েম বাণিজ্য, জমির সালিশসহ নানাভাবে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। এ ব্যাপারে ওসি মো. মোখলেছুর রহমান আকন্দ তার গ্রেফতারের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন বৃহস্পতিবার সকালে আসামিকে সুনামগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

সিলেটে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ

ছাতকে সাবেক এমপি মানিকের প্রভাবে শূন্য থেকে কোটিপতি চেয়ারম্যান আওলাদ

প্রকাশের সময় : ১০:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫

আত্মগোপনে থেকে রক্ষা পাননি ছাতক উপজেলার কৃষক লীগের আহ্বায়ক ও ভাতগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন। অবশেষে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তিনি উপজেলার ভাতগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। বুধবার রাতে পুলিশ অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযান পরিচালনা করে তার নিজ বাড়ি সংলগ্ন হায়দরপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানায়, সাবেক এমপি মানিকের কৃপায় বেকার থেকে ইউপি চেয়ারম্যান বনে যান তিনি। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আত্মগোপনে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১১ সালের নির্বাচনে ভাতগাঁও ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আওলাদ হোসেন। এক সময় বেসরকারি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক ছিলেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষকতার পেশার পাশাপাশি থানার দালালি শুরু করেন। ২০১১ সালে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর রাজনীতিতে সাবেক এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের চাচাতো ভাই উপজেলার যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাব শুরু হলে তিনি বিল্লাল আহমদের পেছনে অর্থ লগ্নি করা শুরু করেন। ২০১৮ সালে উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক পদ বাগিয়ে নেন আওলাদ হোসেন।

আওলাদ হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে কয়েক বছরের ব্যবধানে শূন্য থেকে কোটিপতি হয়েছেন। তার টাকার উৎস ছিল ভুয়া প্রকল্প দালালি জমি দখল ও বেচাকেনা। অবৈধভাবে উপার্জিত টাকার সিংহভাগই লন্ডনে পাঠিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ প্রশাসন এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, তার গ্রামের বাড়ির হাওড়ের ভাতগাঁও মৌজায় প্রায় ৩০ একর জমি কিনেছেন তিনি।

সিলেটের আখলিয়া এলাকায় আব্দুল মান্নান ভিলা নামে তার বাবার নামে আলিশান বাড়ি রয়েছে। যা তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর করেছেন। এছাড়া তার ছেলে ৩০ লাখ টাকার বিনিময় লন্ডনে পাঠিয়েছে। আওলাদ হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর নিজেকে সাবেক এমপি মানিকের চেয়ারম্যান হিসাবে পরিচয় দেওয়া শুরু করেন। কাজ না করেই টিআর, কাবিখা, জিআর, কাবিটার টাকা ও চাল উঠিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আওলাদ হোসেন ভিজিডি, ইউপি ট্যাক্স, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ফি, ১% খাতের টাকা খেয়ালখুশিমতো ব্যবহার করতেন। এছাড়া নিজের লোকদের বিভিন্ন সরকারি কার্ড ও বরাদ্দ দিতেন এবং নিজের মনোনীত লোক দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করাতেন। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড, বিভিন্ন প্রকার ভাতা, আশ্রয়ণ প্রকল্প ও মুজিব বর্ষের ঘর, সরকারি মাটি বিক্রি, ওয়ারেশ কায়েম বাণিজ্য, জমির সালিশসহ নানাভাবে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। এ ব্যাপারে ওসি মো. মোখলেছুর রহমান আকন্দ তার গ্রেফতারের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন বৃহস্পতিবার সকালে আসামিকে সুনামগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।